1. admin@dailyrajbarinews.com : dailyrajbarinews :
  2. akmolbangladesh@gmail.com : Sheikh Faysal : Sheikh Faysal
November 27, 2022, 7:40 pm

৩০ মণের ভিক্টরকে সন্তানের আদরে বড় করেছেন এক দম্পতি

  • সর্বশেষ আপডেট Saturday, July 2, 2022
  • 81 মোট ভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক..

রাজবাড়ীতে সন্তানের মতো আদর-যতœ করে প্রতিপালন করেছেন ভিক্টর নামে একটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। এটির ওজন ৩০মণ। এটিকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করা হচ্ছে। দাম হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকা।

গরুর মালিক দম্পতির নাম ইউনুস শেখ ও বুলু বেগম। বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলা শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে। এই দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইউনসু রাজমিস্ত্রীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া বাড়তি আয়ের জন্য বাড়িতে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগী পালন করেন।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার ঈদুল আযহা উপলক্ষে চার ধরণের পশু তৈরি করা হয়েছে। মোট পশুর পরিমান । এসবের মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। গরু রয়েছে২১ হাজার ৮৮৫টি। সবচেয়ে বেশি গরু রাজবাড়ী সদর উপজেলায়। আট হাজার দুইটি। পাংশা উপজেলায় গরু ছয় হাজার একটি, গোয়ালন্দ উপজেলায় দুই হাজার ২৩টি, কালুখালী উপজেলায় তিন হাজার ১০টি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলায় গরু রয়েছে দুই হাজার ৮৪৯টি। পাঁচ উপজেলায় মোট ছাগল রয়েছে ১৪ হাজার ১৪০টি। ছাগল দিক দিয়েও রাজবাড়ী সদর সবচেয়ে এগিয়ে। সদরে ছাগল রয়েছে চার হাজার ১২টি, পাংশায় তিন হাজার ১০টি, গোয়ালন্দ উপজেলায় এক হাজার ৩২৫টি, বালিয়াকান্দিতে দুই হাজার ৯১৭টি এবং কালুখালী উপজেলায় দুই হাজার ৮৭৮টি। সদর উপজেলায় ভেড়া ১১৩টি, পাংশায় ১০৭টি, গোয়ালন্দে ৯৭টি, বালিয়াকান্দিতে ৭০টি এবং কালুখালী উপজেলায় ৮০টি। তবে গোয়ালন্দ, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোনো মহিষ পালন করা হয়নি। শুধু রাজবাড়ী ও পাংশায় মহিষ তৈরি করা হয়েছে ১১২টি। সদর উপজেলায় মহিষ রয়েছে ৪২টি এবং পাংশা উপজেলায় ৭০টি।


বুলু বেগম প্রথম আলো প্রতিনিধিকে বলেন, দুই বছর আগে এই ষাঁড়টি আমরা কিনে আনি। দাম নিয়ে ছিল ৮৭ হাজার টাকা। এরপর থেকে আমরা আমাদের সন্তানের মতো ষাঁড়টিকে আদর যতœ করছি। প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াই। পাশাপাশি বিভিন্ন ফল খেতে দেই। কলা, আপেল, কাঠাল প্রভৃতি। কলা পুরোটা এক সঙ্গে খেতে পারে। তবে আপেল খেতে সমস্যা হয়। একারণে আপেল কেটে দেই। ঘাস খাওয়াই। চালের খুদ (ভাঙা চাল) দিয়ে পাতলা ভাত রান্না করে খড় ও অন্য খাবারের মিশিয়ে খাওয়াই। এভাবেই আমাদের ষাঁড়টিকে বড় করে তুলেছি। গত কোরবানীর ঈদেও অনেকে কিনতে এসেছিল। কিন্তু আমরা কাউকে দেখাই নাই। কারণ গত ঈদে আমাদের বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল না। এবার আমরা বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছি।

ইউনুস শেখ বলেন, আমরা গরুটির দাম চাচ্ছি ১২ লাখ টাকা। এই ধরণের গরুর দাম বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেক বেশি চাওয়া হয়। কিন্তু আমরা বাড়তি দাম চাচ্ছি না। সন্তোষজনক দাম পেলে গরুটি বিক্রি করে দেবো।

সরেজমিনে বুধবার বিকেলে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ইউনুস শেখের বাড়ি। গরুর জন্য একটি আধাপাকা ঘর তৈরি করা হয়েছে। মেঝে পাকা। বিদ্যুৎ চলে গেছে। ষাঁড়টি ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গৃহকর্তী বুলু বেগম ষাঁড়টিকে দাঁড়াতে বলেন। ষাঁড় অনেকটা বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ায়। তবে উঠে দাঁড়াতে বেশ কষ্ট হয়। এরপর তাকে কলা ও ঘাষ খেতে দেওয়া হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফজলুল হক সরদার বলেন, আমরা খামারীদের বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি পশুর কোনো সংকট হবে না। আবার আমাদের স্বপ্নের সেতু চালু হয়েছে। এতে করে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আগের মতো ঝামেলা পোহাতে হবে না। তাছাড়া জেলায় ১৮ থেকে ২০টি গরুর হাট বসবে। সবমিলিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোনো সমস্যা হবে বলে আশা করছি।

আপনার পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন
© All rights reserved © 2021 | Daily Rajbari News
Theme Customized By Uttoron Host